ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২১ জানুয়ারির ‘গেম প্ল্যান’-বিদ্রোহী রাজনীতিতে চেকমেট!

নিজস্ব সংবাদ :

 

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির আগামী ২১ জানুয়ারির সিদ্ধান্ত রাজনীতির মাঠে এক যুগান্তকারী কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের এই ‘গেম প্ল্যান’ মূলত বিদ্রোহী প্রার্থীদের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চেকমেট।
আগামী ২১ জানুয়ারি বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এক (০১) জন প্রার্থীকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। তবে এই একটি প্রত্যাহারের পেছনে লুকিয়ে আছে একটি বড় রাজনৈতিক কৌশল, যা ইতোমধ্যেই সারা দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দলের এই কৌশলের আওতায় দেশের বহু আসনে দুইজন দলীয় নেতাকে মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত মনে হলেও বাস্তবে এটি বিদ্রোহী রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
প্রতীক বরাদ্দের দিন—২১ জানুয়ারি—এই দুইজন মনোনীত প্রার্থীর মধ্য থেকে একজন আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন। অর্থাৎ ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত একজনই থাকবেন, কিন্তু প্রক্রিয়াটি দুই ধাপে সম্পন্ন হবে।
এই কৌশলের ফলে দলীয় মনোনীত প্রার্থীরা থাকছেন পূর্ণ দলীয় ঘেরাটোপে, আর বিদ্রোহী প্রার্থীদের রাজনীতি পড়েছে নজরদারির কঠোর ঘেরাকলে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি ‘নো এস্কেপ পলিসি’। কারণ এই কৌশলের পর আর কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার বাস্তব সুযোগ থাকছে না। বিদ্রোহী হওয়ার আগেই সম্ভাব্য সকল পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এর ফলে দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব কমবে, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হবে এবং মাঠপর্যায়ে শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে—এটাই হাই কমান্ডের মূল লক্ষ্য।
বিগত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে বিএনপি বহু আসনে ভরাডুবির মুখে পড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই নতুন কৌশলের জন্ম বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এই ‘গেম প্ল্যান’ কার্যকর হলে নির্বাচনী মাঠে বিএনপি একটি ঐক্যবদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে হাজির হবে।
অন্যদিকে, যারা জনপ্রিয় হলেও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে রাজনীতি করার চিন্তা করতেন—তাদের জন্য এটি কার্যত একটি ‘রাজনৈতিক লাল কার্ড’।
দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে নতুন বাস্তবতা—কেউ আর নিজেকে বিকল্প শক্তি হিসেবে দাঁড় করাতে পারবেন না।
রাজনীতির ভাষায় এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘চেকমেট’। যেখানে বিদ্রোহী রাজনীতির ঘুঁটি আগেই আটকে দেওয়া হয়েছে।
এই কৌশলের মাধ্যমে বিএনপি বার্তা দিতে চায়—দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে কোনো রাজনীতির জায়গা নেই।
২১ জানুয়ারিকে ঘিরে তাই শুধু একটি প্রত্যাহারের ঘোষণা নয়, বরং একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।
রাজনীতির মাঠে শুরু হয়ে গেছে শেষ চালের খেলা—যেখানে একমাত্র বিজয়ী হতে চায় দলীয় শৃঙ্খলা এবং ঐক্য।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০১:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
১৭৫ বার পড়া হয়েছে

২১ জানুয়ারির ‘গেম প্ল্যান’-বিদ্রোহী রাজনীতিতে চেকমেট!

আপডেট সময় ০১:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

 

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির আগামী ২১ জানুয়ারির সিদ্ধান্ত রাজনীতির মাঠে এক যুগান্তকারী কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের এই ‘গেম প্ল্যান’ মূলত বিদ্রোহী প্রার্থীদের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চেকমেট।
আগামী ২১ জানুয়ারি বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এক (০১) জন প্রার্থীকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। তবে এই একটি প্রত্যাহারের পেছনে লুকিয়ে আছে একটি বড় রাজনৈতিক কৌশল, যা ইতোমধ্যেই সারা দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দলের এই কৌশলের আওতায় দেশের বহু আসনে দুইজন দলীয় নেতাকে মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত মনে হলেও বাস্তবে এটি বিদ্রোহী রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
প্রতীক বরাদ্দের দিন—২১ জানুয়ারি—এই দুইজন মনোনীত প্রার্থীর মধ্য থেকে একজন আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন। অর্থাৎ ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত একজনই থাকবেন, কিন্তু প্রক্রিয়াটি দুই ধাপে সম্পন্ন হবে।
এই কৌশলের ফলে দলীয় মনোনীত প্রার্থীরা থাকছেন পূর্ণ দলীয় ঘেরাটোপে, আর বিদ্রোহী প্রার্থীদের রাজনীতি পড়েছে নজরদারির কঠোর ঘেরাকলে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি ‘নো এস্কেপ পলিসি’। কারণ এই কৌশলের পর আর কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার বাস্তব সুযোগ থাকছে না। বিদ্রোহী হওয়ার আগেই সম্ভাব্য সকল পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এর ফলে দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব কমবে, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হবে এবং মাঠপর্যায়ে শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে—এটাই হাই কমান্ডের মূল লক্ষ্য।
বিগত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে বিএনপি বহু আসনে ভরাডুবির মুখে পড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই নতুন কৌশলের জন্ম বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এই ‘গেম প্ল্যান’ কার্যকর হলে নির্বাচনী মাঠে বিএনপি একটি ঐক্যবদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে হাজির হবে।
অন্যদিকে, যারা জনপ্রিয় হলেও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে রাজনীতি করার চিন্তা করতেন—তাদের জন্য এটি কার্যত একটি ‘রাজনৈতিক লাল কার্ড’।
দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে নতুন বাস্তবতা—কেউ আর নিজেকে বিকল্প শক্তি হিসেবে দাঁড় করাতে পারবেন না।
রাজনীতির ভাষায় এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘চেকমেট’। যেখানে বিদ্রোহী রাজনীতির ঘুঁটি আগেই আটকে দেওয়া হয়েছে।
এই কৌশলের মাধ্যমে বিএনপি বার্তা দিতে চায়—দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে কোনো রাজনীতির জায়গা নেই।
২১ জানুয়ারিকে ঘিরে তাই শুধু একটি প্রত্যাহারের ঘোষণা নয়, বরং একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।
রাজনীতির মাঠে শুরু হয়ে গেছে শেষ চালের খেলা—যেখানে একমাত্র বিজয়ী হতে চায় দলীয় শৃঙ্খলা এবং ঐক্য।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/prothomsongbad24/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481