জেল গেটেই ফাঁদ—ইমুর পেছনে অদৃশ্য শক্তি?
সিলেট মহানগরের ৩২ নং ওয়ার্ড বিএনপির অন্যতম আহ্বায়ক সদস্য ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অগ্রসৈনিক ইমরান আহমদ ইমু’র বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ‘ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন— ইমুর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো কোনো আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রশাসনিক দমন-পীড়নের অংশ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ৩২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জিয়াউর রহমান সুমন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম হিল্টন, শাহপরান থানার বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক নুরুল হক মাসুম, ৩৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য মহি উদ্দিন মুহিন, বিএনপি নেতা হেলাল আহমদ, সায়মন আহমেদ, তারেক আহমদ, শাহপরান থানার স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলু মিয়া, যুবদল নেতা আব্দুর রহমান শিপু, ছাত্রনেতা আল আমিনসহ ৩২ ও ৩৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
১৭ বছরের জেল-জুলুমের পরও থামেনি নিপীড়ন:-
বক্তারা জানান, ইমরান আহমদ ইমু দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জেল-জুলুম ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছেন। সর্বশেষ গত ১৯ আগস্ট তাকে একটি তথাকথিত ‘বৈষম্যবিরোধী’ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্তি লাভ করেন।
কিন্তু সেখানেই শেষ হয়নি নিপীড়নের গল্প।

জেল গেটেই ‘প্রশাসনিক ফাঁদ’:
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জামিনে মুক্ত হয়ে জেল গেট থেকে বের হওয়ার মুহূর্তেই যৌথ বাহিনীর সদস্যরা শতাধিক ফাঁদ পেতে বসে ছিলেন। ইমু জেল গেটের বাইরে পা রাখামাত্রই তাকে ঝাঁপিয়ে ধরে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে তাকে শাহপরান থানায় সোপর্দ করা হলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় ওসি জানান—
“ডিসি সাহেব জানেন, উপরের নির্দেশ আছে।”

এরপর আরও একটি বৈষম্যবিরোধী মামলায় তাকে আসামি দেখিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
‘এটি একজনের নয়, পুরো তৃণমূলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, এই ঘটনা কোনো একক ব্যক্তিকে হয়রানির বিষয় নয়; এটি পুরো বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত দমন-পীড়নের অংশ। মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে ভীতি সৃষ্টি করাই এই প্রশাসনিক অপতৎপরতার মূল উদ্দেশ্য।
তাদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের দমন করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্তব্ধ করতেই এই কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে।

ক্ষুব্ধ তৃণমূল—কার নির্দেশে চলছে এই অপতৎপরতা?
এই ঘটনার প্রতিবাদে ৩২ ও ৩৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির তৃণমূল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা একযোগে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন। তারা বলেন—
“আমাদের প্রশ্ন—এই নির্দেশদাতা কারা? কার ইশারায় একজন আন্দোলনের অগ্রসৈনিককে বারবার মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হচ্ছে?”

নিঃশর্ত মুক্তির দাবি:
সংবাদ সম্মেলন থেকে ইমরান আহমদ ইমু’র বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানানো হয়।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে ইমুকে মুক্তি না দিলে তৃণমূল পর্যায় থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।










